বাংলার বিপ্লবের সাক্ষী বাঁকুড়ার বৈপ্লবিক বাড়ি আজ বিলুপ্তির পথে

আমার কথা, বাঁকুড়া, ১১অক্টোবরঃ
ধ্বংসের মুখে বৈপ্লবিক বাড়ি,বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছে বৈপ্লবিক কালীবাড়ির পুজো।
বাঁকুড়ার শহরের বড়ো কালীতলার কালীপুজোর সাথে যোগ রয়েছে বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের। বড় কালীতলার কালীমন্দিরের সামনেই রয়েছে বৈপ্লবিক বাড়ি। কথিত আছে বিশ শতকের গোড়ার দিকে রামদাস চক্রবর্ত্তীর বাড়িতে গড়ে উঠে বিপ্লবীদের আখাড়া। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সাথেও যোগ রয়েছে এই বৈপ্লবিক বাড়ির। কথিত আছে বারীন ঘোষ থেকে প্রফুল্ল চাকির মতো বিপ্লবীরা এক সময়ে আসতেন এই বৈপ্লবিক বাড়িতে। সেখানেই শক্তির দেবীর উপাসনা করে অস্ত্র শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতেন বিপ্লবীরা।
কথিত আছে জনৈক রঘু ডাকাত জঙ্গল ঘেরা এই এলাকায় শাক্তদেবীর উপাসনা শুরু করেন এক সময়ে। এরকম অনেক গল্প আর ইতিকথা ঘোরাঘুরি করে কালীতলার কালীবাড়িকে ঘিরে।


এরপর দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে এক শতাব্দী। সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের হাত ধরে স্বাধীন হয়েছে দেশ। কিন্তু দিনের পর দিন ক্রমশ ভগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে বৈপ্লবিক বাড়ি, আর তার সাথে জৌলুস হারিয়েছে এই কালীপুজোর ঐতিহ্য। বাঁকুড়া শহরের বড়ো বড়ো পুজোর জৌলুসে ফিকে হয়ে গেছে এর ঐতিহ্য। স্থানীয়দের আক্ষেপ বৈপ্লবিক বাড়ি যে ভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে তা সত্যিই লজ্জার। ভেঙে পড়া বৈপ্লবিক বাড়ি আজো জানান দেয় সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের।