দুর্গাপুরের এটিএম চক্রের মূল পাণ্ডা, মাত্র ২২বছর বয়সী ভুয়ো ব্যাংক ম্যানেজার পুলিশের জালে

আমার কথা, দুর্গাপুর, ৩অক্টোবরঃ
“নমস্কার, আমি ব্যাংক ম্যানেজার দীপক শর্মা বলছি। জিএসটি লাগু হওয়ার জন্য আপনার ব্যাংকের এটিএম কার্ডটি ব্লক হয়ে গেছে। আপনার কার্ডটি কি পুনরায় চালু করতে চান, যদি চালু করতে চান তাহলে প্রথমেই বলি আপনার কার্ড সংক্রান্ত কোনো তথ্য কাউকে দেবেন না। আপনার কার্ডের ওপরে যে ১৬ডিজিটের নাম্বার রয়েছে সেটি ও কার্ডের পেছনে ৩ডিজিটের নাম্বার আছে সেগুলি আমাকে বলুন। এরপর দেখুন আপনার কাছে একটি পিন নাম্বার গেছে, এবার সেটি আমাকে বলুন কারন ওই পিন নাম্বার দিয়ে আপনার কার্ডের ভেরিফিকেশন করা হবে তারপর আপনার এটিএম কার্ডটি চালু হয়ে যাবে।”-চলতি বছরের আগষ্টের ২৮তারিখে এরকমই একটি ফোন পান ডিএসপি কর্মী বি-জোনের বিদ্যাসাগর অ্যাভিন্যু-র বাসিন্দা অঞ্জন ভট্টাচার্য্য। সেই ফোনের ভিত্তিতে দীপক শর্মার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে ১লক্ষ ৬০হাজার টাকা খুইয়ে বসেন অঞ্জনবাবু। এরপর তিনি দুর্গাপুর থানার শরণাপন্ন হন। অঞ্জনবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। গোপন সুত্র ধরে শুরু হয় জনৈক দীপক শর্মার ফোনে আড়ি পাতা। আড়ি পাততে গিয়ে নানা তথ্য পুলিশের হাতে আসতে শুরু করে। এরপর একটু একটু করে জাল গোটাতে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগে ও পুলিশ।
অবশেষে আজ ভোরে ঝাড়খন্ড পুলিশের সহযোগিতায় ঝাড়খন্ডের দেওঘর জেলার কারো গ্রাম থেকে বলরাম মন্ডল(২২) ওরফে দীপক শর্মা ও হনুমান কাপরি(২৫)-কে তাদের নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের আজ সকালে আনা হয় দুর্গাপুরে। এরপর তাদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৭দিনের পুলিশী হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুত্রের খবর, গত তিন চারমাস ধরে এই এটিএম প্রতারণা চক্রের ফাঁদ পেতে বসেছিল মূল মাথা বলরাম মন্ডল সহ মোট ৫জনের একটি দল। তার আগে সে মুম্বাইতে বিভিন্ন ডান্সবারে কাজ করত। ধৃতদের কাছ থেকে কিছু জাল এটিএম কার্ড পাওয়া গেছে। এছাড়া এরা নানা সময়ে বেশ কিছু জাল সিম কার্ড ব্যবহার করত, যেগুলিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা এই প্রতারণাগুলি করত। প্রতারণার টাকাগুলি দিয়ে এরা ‘পে-টিএম’, ‘এম-পেসা’ সহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জিনিসপত্র কিনে নিতো, আবার কখনও জাল এটিএম কার্ড দিয়ে টাকাই তুলে নিতো, বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। অবশেষে তাদের সেই প্রতারণার চক্রের মূল পান্ডা ধরা পড়ল গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশের হাতে। অভিযুক্ত বাকী তিনজনকে এখনও ধরা না গেলেও তাদের খোঁজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।